কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ এ ০১:৫৪ PM

পৃথিবীব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহার

কন্টেন্ট: পাতা

বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪১৬টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। সেগুলো থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ মোট উৎপন্ন বিদ্যুতের প্রায় ৯ শতাংশ। ১৫টি দেশে আরও ৬৩টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই নির্মাণ করা হবে পরমাণু বিশ্বে নবাগত দেশসমূহে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

উল্লেখ্য, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বর্তমানে ২১ টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি চালু রয়েছে। এছাড়া আরও ৬ টি নির্মাণাধীন রয়েছে এবং আরও নতুন পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের বিষয়টি পরিকল্পনাধীন রয়েছে। দেশটি ২০৩১-৩২ ও ২০৪৭ সাল নাগাদ যথাক্রমে ২২,৪৮০ মেগাওয়াট ও ১,০০,০০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। অন্যদিকে, চীনে বর্তমানে ৫৭টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি চালু রয়েছে। এছাড়া আরও ২৯ টি নির্মাণাধীন রয়েছে। চীন আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ৭০,০০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। পাকিস্তান ২০৩০ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ক্ষমতা ৮,৮০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমানের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বের পঞ্চমতম দেশ। দেশটিতে বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, ২৬ টি পারমাণবিক চুল্লি চালু রয়েছে এবং নির্মাণাধীন রয়েছে ২টি । দক্ষিণ কোরিয়ার 11th Basic Plan for Long-Term Electricity Supply and Demand অনুসারে, ২০৩৮ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ শক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫.২% নির্ধারণ করা হয়েছে। পারমাণবিক প্রযুক্তি যথাযথ ব্যবহার করে একটি অনুন্নত দেশ (least developed country) যে কত দ্রুত উন্নত দেশে (developed country) উন্নীত হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ যেমন-ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়াও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তেল-সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি নির্মাণ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম চালু করেছে। আগামী বিশ বছরের মধ্যে সৌদি আরবে ১৬-১৮ টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়া ও কেনিয়া, ইউরোপের তুরস্ক, বেলারুশ, পোলান্ড প্রভৃতি দেশসমূহ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি যথেষ্ট উন্নত ও নিরাপদ এবং এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে Energy Security'র অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সোর্স:

লিংক: https://pris.iaea.org/pris/countrystatistics/countrystatisticslandingpage.aspx
তারিখ: ০১/০৩/২০২৬ খ্রি.

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন