গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ এ ০১:৫১ PM
কন্টেন্ট: পাতা
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ১ম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের ভৌত নির্মাণ কাজ আনুমানিক ৯৮% এবং ২য় ইউনিটের রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের ভৌত নির্মাণ কাজ আনুমানিক ৯৩% বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ম ইউনিটের Reactor Pressure Vessel ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর এবং ২য় ইউনিটের Reactor Pressure Vessel ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর ডিজাইন পজিশনে স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫) প্রকল্প এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলস্টোন অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বাক্ষরিত Nuclear Non-Proliferation Treaty (NPT, 31 August, 1979); Nuclear Non-Proliferation Treaty Related Safeguard Agreement (11 June, 1982); Additional Protocol to Safeguards Agreement (30 March, 2001) অনুযায়ী পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বিশ্বাঙ্গনে বাংলাদেশের স্বচ্ছতা প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি কমিশনিং এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, ইউনিট-২-এর টারবাইন আইল্যান্ডে লো প্রেশার হিটার নম্বর ৪ (এলসিসি)-এর ইরেকশন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, প্রাইমারি সার্কিট ব্লোডাউন এবং মেকআপ সিস্টেম (কেবিএ)-এর পোস্ট ইনস্টলেশন ক্লিনিং (পিআইসি) কাজ চলমান ছিল, যার মধ্যে ৪০টি ট্র্যাকের মধ্যে ২৩টি ট্র্যাকের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়কালে, ইউনিট-১-এর টারবাইন আইল্যান্ডে হাই প্রেশার এবং লো প্রেশার স্টপ অ্যান্ড কন্ট্রোল ভালভস (এমএএ এবং এমএসি)-এর ইরেকশনও চূড়ান্ত হয়েছে, যা প্রকল্পের টারবাইন সিস্টেমের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০২৫ সালের প্রথমার্ধে, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমের কয়েকটি মাইলস্টোন অর্জিত হয়েছে। জানুয়ারি ২০২৫-এ ৪০০ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (জিআইএস)-এর এনার্জাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্ল্যান্টের পাওয়ার সাপ্লাই ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে শক্তিশালী করেছে। জুন ২০২৫-এ ইউনিট স্টেপ আপ এবং ইউনিট ওয়ার্কিং অক্সিলিয়ারি ট্রান্সফর্মারস-এর এনার্জাইজেশন কাজ শেষ হয়েছে, যা ইউনিট-১-এর কমিশনিং কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, হাইড্রোলিক এবং নিউম্যাটিক টেস্টিং (এইচটি এবং পিটি) বিভিন্ন পাইপলাইন এবং ট্যাঙ্কে চলমান ছিল, যার ফলে সিস্টেমের নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়েছে।
আগস্ট ২০২৫-এ, ২৩০ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (জিআইএস) এবং ৪০০/২৩০ কেভি অটোট্রান্সফর্মার-এর এনার্জাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্ল্যান্টের গ্রিড কানেকশন এবং পাওয়ার ট্রান্সমিশনকে আরও সুরক্ষিত করেছে। এই সময়কালে, কমিশনিংয়ের অংশ হিসেবে ইন্টারমিডিয়েট কম্পোনেন্ট কুলিং সার্কিট, টারবাইন লুব্রিকেশন অয়েল সিস্টেম এবং হাইড্রো-লিফট সিস্টেম-এর পোস্ট ইনস্টলেশন ক্লিনিং সম্পন্ন হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই কাজগুলো রূপপুর এনপিপির ফুয়েল লোডিং এবং পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেছে, যা প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচী অনুসারে চলছে।
১০ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে IAEA-এর প্রি-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ টিম (Pre-OSART) রূপপুর প্রকল্প পরিদর্শনকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অপারেশনাল দিক নিয়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে। পরিদর্শন শেষে টিম জানায় যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তামূলক মানদণ্ড অনুসরণে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রকল্পের নেতৃত্ব, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি প্রস্তুতি, বিকিরণ সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, আধুনিক সিম্যুলেটর ব্যবহার করে রিফুয়েলিং মেশিন পরিচালনার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি আদর্শ অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত।
এভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আমাদের অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো উজ্জ্বলতর হবার সুযোগ রয়েছে।